চাহিদা নিয়ে ওপেকের নতুন পূর্বাভাস

২০২৬ সালে কমতে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের ব্যবহার

বিশ্ববাজারে চলতি বছরের জ্বালানি তেলের চাহিদা নিয়ে নতুন পূর্বাভাস দিয়েছে খনিজ তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক।

ইরান যুদ্ধের কারণে চাহিদা বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। ওপেকের আগে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাও (আইইএ) একই কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদা কমে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছিল। সম্প্রতি প্রকাশিত ওপেকের মাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর রয়টার্স।

প্রতিবেদনটিতে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের চাহিদা প্রতিদিন ১১ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল বাড়তে পারে। এর আগে ওপেকের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, এ চাহিদা দৈনিক ১৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল বাড়তে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক সংকটের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। ফলে বাজার বিশ্লেষকরা আগের ইতিবাচক অবস্থান থেকে সরে এসে নতুন করে হিসাব মেলাতে বাধ্য হচ্ছেন।

চলমান এ যুদ্ধের কারণে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘স্ট্রেইট অব হরমুজ’ বা হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এ গুরুত্বপূর্ণ পথটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের লাখ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছতে পারছে না। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে হু হু করে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। তেলের এ অতিরিক্ত দাম সাধারণ ভোক্তা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, উভয় পক্ষকেই চরম সংকটে ফেলেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্বের অনেক দেশের সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য জরুরি পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে।

তবে ২০২৬ সালের পূর্বাভাস কমালেও ২০২৭ সালের জন্য আশার কথা শুনিয়েছে ওপেক। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২০২৭ সালে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের চাহিদা আবার বাড়বে। আগামী বছরের জন্য জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ার পূর্বাভাস দৈনিক ১৫ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে উন্নীত করা হয়েছে। এটি আগের পূর্বাভাসের চেয়ে দুই লাখ ব্যারেল বেশি। ওপেক মনে করছে, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও বিশ্বের অর্থনৈতিক ভিত্তি এখনো বেশ শক্তিশালী রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের তীব্র সংকট সত্ত্বেও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে একধরনের স্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

ওপেক জানিয়েছে, চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের গড় চাহিদা হতে পারে দৈনিক ১০ কোটি ৪৫ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল। এপ্রিলেও এ প্রাক্কলন ছিল দৈনিক ১০ কোটি ৫০ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল। উল্লেখ্য, এপ্রিলের প্রতিবেদনেও দ্বিতীয় প্রান্তিকের চাহিদা দৈনিক পাঁচ লাখ ব্যারেল কমানো হয়েছিল। চলমান সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণে চাহিদার এ নিম্নমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রতিবেদনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উৎপাদনের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের বিপর্যয়ের চিত্র উঠে এসেছে। ওপেক, রাশিয়া ও সহযোগী দেশগুলোকে নিয়ে গঠিত ‘ওপেক প্লাস’ জোট গত এপ্রিল থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছিল। কিন্তু হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জোটের পক্ষে সে চুক্তি বাস্তবায়ন করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ফলে উৎপাদন বাড়ার পরিবর্তে এপ্রিলে উল্টো জ্বালানি তেল সরবরাহ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

ওপেকের তৈরি করা প্রতিবেদনে দেখা যায়, এপ্রিলে ওপেক প্লাসের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উৎপাদন কমে দৈনিক ৩ কোটি ৩১ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেলে নেমে এসেছে। এটি মার্চের তুলনায় দৈনিক ১৭ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল কম। এপ্রিলে এ উৎপাদন হিসাবের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উৎপাদনও অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে দেশটি গত ১ মে আনুষ্ঠানিকভাবে ওপেক জোট ত্যাগ করেছে।

জ্বালানি খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এ অস্থির পরিস্থিতি আগামী দিনগুলোয়ও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর গভীর প্রভাব ফেলবে।

আরও